ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারাগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট: সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ”

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩৫৫ Time View

এন এস. ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার তারাগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় তেল সংকটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র। উপজেলার পাঁচটি পেট্রোল পাম্পে প্রকাশ্যে চলছে অনিয়ম, আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা জেরিক্যানসহ নানা কৌশলে তেল সংগ্রহ করে পরে তা বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করছে।

এর ফলে স্থানীয় শিক্ষক, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, পল্লী প্রাণী চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিন পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।

উপজেলার মিল্ক ভিটা কোম্পানির কৃত্রিম প্রজনন কর্মী  মো.  রশিদুল ইসলাম লিটন জানান, “গত দুইদিন ধরে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। কিন্তু পেট্রোল পাইনি। খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে।”

একই অভিযোগ করেন এনজিও কর্মী সুলতানা বেগম। তিনি বলেন, “আমি একজন মহিলা মানুষ। গত তিন-চারদিন ধরে পাম্পে গিয়েও তেল পাইনি। এখন বাধ্য হয়ে ভ্যানযোগে ফিল্ডে যেতে হচ্ছে।”

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, কিছু রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আগে থেকেই জেরিক্যান নিয়ে লাইনে অবস্থান করছেন। সাধারণ মানুষ যখন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন, তখন তারা সহজেই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার বলেন, “আমরা অনেকটা জিম্মি অবস্থায় আছি। তাদের তেল না দিলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, “আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু উপজেলার মানুষ যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে আমার একার পক্ষে তেল সিন্ডিকেট বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারপরও খবর পেলেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছি।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, তেল সিন্ডিকেট বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

কারাবন্দী বোঝা নয়, রাষ্ট্রের সম্পদ, কারাগার হোক পুনর্বাসন ও উৎপাদনের কেন্দ্র

তারাগঞ্জে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট: সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ”

Update Time : ১০:২৮:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

এন এস. ফারুক

স্টাফ রিপোর্টার তারাগঞ্জ (রংপুর)

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় তেল সংকটকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্র। উপজেলার পাঁচটি পেট্রোল পাম্পে প্রকাশ্যে চলছে অনিয়ম, আর এর খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে। অভিযোগ উঠেছে, সিন্ডিকেট সদস্যরা জেরিক্যানসহ নানা কৌশলে তেল সংগ্রহ করে পরে তা বেশি দামে কালোবাজারে বিক্রি করছে।

এর ফলে স্থানীয় শিক্ষক, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি, এনজিও কর্মী, পল্লী প্রাণী চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রতিদিন পাম্পে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেককে।

উপজেলার মিল্ক ভিটা কোম্পানির কৃত্রিম প্রজনন কর্মী  মো.  রশিদুল ইসলাম লিটন জানান, “গত দুইদিন ধরে পেট্রোল পাম্পে গিয়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করেছি। কিন্তু পেট্রোল পাইনি। খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে।”

একই অভিযোগ করেন এনজিও কর্মী সুলতানা বেগম। তিনি বলেন, “আমি একজন মহিলা মানুষ। গত তিন-চারদিন ধরে পাম্পে গিয়েও তেল পাইনি। এখন বাধ্য হয়ে ভ্যানযোগে ফিল্ডে যেতে হচ্ছে।”

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, কিছু রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আগে থেকেই জেরিক্যান নিয়ে লাইনে অবস্থান করছেন। সাধারণ মানুষ যখন দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন, তখন তারা সহজেই তেল নিয়ে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার বলেন, “আমরা অনেকটা জিম্মি অবস্থায় আছি। তাদের তেল না দিলে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, “আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু উপজেলার মানুষ যদি সহযোগিতা না করে, তাহলে আমার একার পক্ষে তেল সিন্ডিকেট বন্ধ করা সম্ভব নয়। তারপরও খবর পেলেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছি।”

স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, তেল সিন্ডিকেট বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।